সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৮ অপরাহ্ন

গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মধুখালীতে সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

মধুখালী(ফরিদপুর) প্রতিনিধি:: ফরিদপুরের মধুখালীতে সোনালী ব্যাংকের কামারখালী শাখার সাবেক জুনিয়র কর্মকর্তা এম এম জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের টাকা জমা না দিয়ে নিজেই আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ অভিযোগে কয়েকজন গ্রাহক সোনালী ব্যাঙ্কের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেছেন।
সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা গেছে, সোনালী ব্যাংক, কামারখালী শাখার জুনিয়র অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন বেশ কয়েকজন গ্রাহকের টাকা তাদের একাউন্টে জমা না দিয়ে নিজেই আত্মাসাৎ করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে গ্রাহকেরা টাকা ফেরত পেতে জাহাঙ্গীর হোসেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। টাকা দেওয়া হবে বলে গ্রাহকদের সাথে টালবাহানা শুরু করেন জাহাঙ্গীর হোসেন।
কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রাহক জানান, ব্যাংকে টাকা জমা দিতে গেলে জাহাঙ্গীর হোসেন ‘টাকা জমা দিয়ে দেবেন’ বলে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নেন। পরে তাদের তাদের জমাদানের একটি করে স্লিপও দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে তারা জানতে পারেন তাদের হিসেব নম্বরে কোনো টাকা জমা পড়েনি।
গ্রাহকরা আরও অভিযোগ করেন, এ বিষয়টি জাহাঙ্গীর হোসেনকে জানালে তিনি নানা ভাবে টালবাহানা শুরু করেন। এক পর্যায়ে গ্রাহকদের কোনো টাকা না দিয়েই সে মধুখালী শাখায় বদলি হয়ে চলে যান।
কয়েকজন গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, তাদের কাছ থেকে জাহাঙ্গীর হোসেন প্রায় ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন।
এদিকে গত এক সপ্তাহ আগে জাহাঙ্গীর হোসেনকে কামারখালী শাখা থেকে সরিয়ে মধুখালী শাখায় বদলি করা হয়। প্রতারনার স্বীকার গ্রাহকরা মধুখালী শাখায় গিয়েও জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে ধর্না দিয়েছেন। কোনো উপায়ন্তর না দেখে ওই ব্যাক্তিরা ঘটনাটি মধুখালী শাখা ব্যবস্থাপক নাজমুল হাসানকে জানিয়ে প্রতিকার চান।
সোনালী ব্যাঙ্কের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জাহাঙ্গীর হোসেন যেখানেই যান সেখানেই ‘পকেট ব্যাংকিং’ শুরু করেন। গ্রাহকের টাকা জমা না দিয়ে সেই টাকা দিয়ে ব্যবসা করেন। তার বিরুদ্ধে একাধিকবার কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো প্রতিকার হয় নাই ।
সোনালী ব্যাংক কামারখালী শাখার ম্যানেজার সুখেন্দ্র কুমার বিশ্বাস জানান, বেশ কয়েকজন গ্রাহক আমার কাছে অভিযোগ করলে তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলি। তিনি বলেন, জাহাঙ্গীর হোসেনকে গ্রাহকদের কথা জানালে তিনি সবাইকে টাকা দিয়ে দিবে বলে আমাকে জানিয়েছেন।
সোনালী ব্যাঙ্ক মধুখালী শাখা ব্যবস্থাপক নাজমুল হাসান জানান, এ ব্যাপারে তিনজন গ্রাহক আমার কাছে এসে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে কথাও বলেছি। জাহাঙ্গীর অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, তিনি টাকা দিয়ে দেবেন।
সোনালী ব্যাংক, ফরিদপুর প্রিন্সিপাল অফিসের ডিজিএম মো. শামসুল হক বলেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন ধরেননি এম এম জাহাঙ্গীর। খুদে বার্তা দিয়েও এ অভিযোগের ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com